
বইয়ের বিবরণ
<table border="0" cellpadding="0" cellspacing="0" width="216" style="width: 162pt;"><tbody><tr height="181" style="mso-height-source:userset;height:135.75pt">
<td height="181" class="xl66" align="left" width="216" style="height:135.75pt;
width:162pt">বাংলা সাহিত্যে বহুমাত্রিক প্রতিভার ধারায় এক দীপ্র নাম বুদ্ধদেব
বসু। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর কালে সংক্ষুব্ধ বিশ্ব-পরিবেশে বাংলা সাহিত্যে তাঁর
দীপ্র আবির্ভাব। দীর্ঘ ষাট বছরের নিরন্তর সাহিত্য-জীবনে বুদ্ধদেব রেখে গেছেন
উজ্জ্বল কিছু শিল্পকর্ম। রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর মতো
সব্যসাচী প্রতিভা আর কেউ আসেন নি। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশের ধারায় তিনি
হয়ে উঠেছিলেন জ্যোতির্ময় এক প্রতিষ্ঠান। কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও ঔপন্যাসিক
ছোটগাল্পিক নাট্যকার প্রবন্ধকার সমালোচক অনুবাদক- এসব পরিচয়েও তিনি বিশিষ্ট। এ
ক্ষেত্রে তাঁর কাব্যনাটকের কথা বিশেষভাবে স্মরণীয়। বাংলা কাব্যনাটকের ধারায়
বুদ্ধদেব সঞ্চার করেছেন এক স্বকীয় মাত্রা। মিথ-পুরাণ আশ্রিত তাঁর কাব্যনাটকগুলো
বিষয়গৌরব ও প্রকরণবৈশিষ্ট্যে বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি
পেয়েছে।<br>
মিথের সমকালস্পর্শী ব্যঞ্জনায়, পুরাণের নবতর ভাষ্য নির্মাণে বুদ্ধদেব বসুর
কাব্যনাটকগুলো অনন্য অনুপম অদ্বিতীয়। কাব্যনাটকে নাটকীয় সংঘাতের পাশাপাশি কবিতার
যে ব্যঞ্জনা উপস্থিত থাকে, বুদ্ধদেবের রচনা থেকে পাঠক তার স্বাদ কানায় কানায়
উপলব্ধি করতে পারবেন। নাটকীয় সংঘাত সৃষ্টি এবং সমাপ্তির ব্যঞ্জনা নির্মাণে
বুদ্ধদেব অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। এ ধারায় তাঁর যেসব কাব্যনাটকের কথা
বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় তার মধ্যে আছে- তপস্বী ও তরঙ্গিণী, কালসন্ধ্যা,
অনাম্নী অঙ্গনা, প্রথম পার্থ, সংক্রান্তি, প্রায়শ্চিত্ত, ইক্কাকু সেন্নিন,
অনুরাধা প্রভৃতি।<br>
বুদ্ধদেব বসুর কাব্যনাটক বিষয়গৌরবে যেমন অনন্য, প্রকরণ-প্রকৌশলেও তেমনি
বিশিষ্ট। তাঁর কাব্যনাটকের সংগঠন স্বয়ংস্বতন্ত্র, অনুপম, অদ্বিতীয়। প্রধানত
মহাভারত-এর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুকাহিনী অবলম্বনে তিনি যে-সব কাব্যনাটক লিখেছেন,
তাতে ফুটে উঠেছে তাঁর প্রাতিস্বিক কল্পনাশক্তির পরিচয়। সংলাপ নির্মাণে তিনি
রেখেছেন অসামান্য নৈপুণ্যের স্বাক্ষর। নাটককে হতে হয় মঞ্চোপযোগী। এ ক্ষেত্রেও
বুদ্ধদেবের কাব্যনাটকগুলো সার্থকতায় উত্তীর্ণ। বস্তুত, বুদ্ধদেবের হাতেই সৃষ্টি
হয়েছে বাংলা কাব্যনাটকের স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।<br>
বুদ্ধদেব বসু কাব্যনাটক ছাড়াও কিছু গদ্যনাটক লিখেছেন। পাঠকের আগ্রহের কথা
বিবেচনা করে বর্তমান গ্রন্থে তাঁর দুটি গদ্যনাটক (কলকাতার ইলেক্ট্রা এবং
সত্যসন্ধ) পরিশিষ্টে গ্রথিত হলো। ধারণা করি, এর ফলে নাট্যকার হিসেবে বুদ্ধদেবকে
চেনা অনেকটা সহজ হবে।<br>
বুদ্ধদেব বসুর অনুপম এই কাব্যনাটকগুলো এতকাল বাজারে সুলভ ছিল না।
বুদ্ধদেব-গবেষক ডক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ-সম্পাদিত এই গ্রন্থ দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ
করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এই বই বুদ্ধদেব-চর্চায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আমরা
মনে করি।</td></tr></tbody></table>
রিভিউ (0)
এখনো কোনো রিভিউ নেই — প্রথম রিভিউ দিন।
রিভিউ দিতে লগইন করুন।


