-35%বইয়ের বিবরণ
<table border="0" cellpadding="0" cellspacing="0" width="216" style="width: 162pt;"><tbody><tr height="184" style="mso-height-source:userset;height:138.0pt">
<td height="184" class="xl66" align="left" width="216" style="height:138.0pt;
width:162pt">আমাদের কাব্যেতিহাসের দীর্ঘ ধারাটি বহুবৈচিত্র্যময়, যুগে-যুগে
পরিবর্তনশীল ও বিকাশশীল। হাজার বছরের বঙ্গীয় কবিতার মুখশ্রী কতভাবেই না কত কবি
শব্দেছন্দে চিত্রায়িত করে গেছেন। জীবনের রাজনীতিআর্থসংস্কৃতি আর উৎপাদন কাঠামোর
জটিল জালে জড়ানো থাকে যে মানবমনের গভীর সংকট-এষণাবাসনা-উৎকাক্ষা সেসবেরই
ব্যঞ্জনাময় ভাষিক রূপ হচ্ছে কবিতা। আধুনিক কালে এই রূপটি অনেক বেশি জঙ্গম,
বিস্তৃত ও বহুবৈশিষ্ট্যে আকীর্ণ। একালের কবিরা যেমন ব্যক্তিস্বাতন্ত্রচিহ্নিত
তেমনি সমবেতভাবে একটি স্বরক্ষেপও বটে, আর সেটি হলো আধুনিক মনস্তত্ত্বের ভুবনকে
অস্তিত্ব জিজ্ঞাসার গভীরে দাঁড় করানো এবং চৈতন্যের সর্বোচ্চ মাত্রায় তার
নিরীক্ষণ-পর্যবেক্ষণ ও রূপায়ণ করা। চল্লিশের দশকের পথিকৃৎ, আধুনিক মূলধারার
অন্যতম কবি আহসান হাবীব। তাঁর কবিব্যক্তিত্বের সুবিনীত প্রকাশ ঘটেছে ‘প্রেমের
কবিতা ছাড়া সাতটি কাব্যগ্রন্থে। তিরিশি কাব্যকলার অনুসারী এই কবি প্রথম কাব্য
রাত্রিশেষ থেকেই স্বকীয় কণ্ঠ ও ভাষারীতি বিনির্মাণে ছিলেন একনিষ্ঠ। গ্রাম ও
শহর-যুগপৎ ছায়া বিস্তার করে আছে জীবনের জমিনে, সেখানে অন্তর্বয়িত হয়েছে
ইতিহাসের বহমান সময়, সভ্যতার সম্মুখযাত্রা আর পরিপার্শ্বের চলমান জীবনযাত্রা ও
মনোভুবন। তার অভীষ্ট হচ্ছে স্বদেশের মূল মুখ দেখা আর এই মুখচ্ছবি অবৈকল্যে রয়ে
গেছে বাংলার গ্রামজীবনে, প্রকৃতিতে, শ্ৰমীদের ক্রিয়াকৃত্যে। এসবই তাঁর কবিতার
বিষয়আশয়। শিল্পায়নের বেলায় আহসান হাবীবের কবিতা মিত পরিসরের, ছন্দকৃতিতে
আকর্ষণীয়, শব্দের সুচারু বিন্যাসে প্রাঞ্জল অথচ ব্যঞ্জনাময়। আহসান হাবীবের
সাতটি কাব্যগ্রন্থের পরিক্রমায় আমরা দেখা পাই একজন সমাজবাদী ইতিহাসের জীবনমুখী
কবিতাকারের যিনি চিনিয়ে দেন আমাদের মূল শিকড়কে আর একইসঙ্গে সভ্যতার চলার পথে
গড়ে-ওঠা নগরজীবনের নানা আবর্ত ও ঘূর্ণিকে। তিনি আমাদের কবিতার ভূমিকে দিগন্তের
দিকে বাড়িয়ে দিতে পেরেছেন।</td></tr></tbody></table>
রিভিউ (0)
এখনো কোনো রিভিউ নেই — প্রথম রিভিউ দিন।
রিভিউ দিতে লগইন করুন।








