
বইয়ের বিবরণ
<table border="0" cellpadding="0" cellspacing="0" width="216" style="width: 162pt;"><tbody><tr height="191" style="mso-height-source:userset;height:143.25pt">
<td height="191" class="xl66" align="left" width="216" style="height:143.25pt;
width:162pt"><br>
রুশ কথাশিল্পী ম্যাক্সিম গোর্কির সঙ্গে বাঙালি পাঠকের পরিচয় আছে। বিদেশী
কথাসাহিত্য বাংলা ভাষায় এ যাবৎ যা অনূদিত হয়েছে, তাতে রুশ সাহিত্যের অংশ
নেহায়েত কম নয়। বাঙালিদের চাইতে রুশিরা এ ব্যাপারে বেশি আগ্রহী ও তৎপর ছিলেন
বলে এটা সম্ভব হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারি উদ্যোগে পৃথিবীর অন্যান্য অনেক
ভাষার মতো বাংলায়ও রুশ সাহিত্যের প্রচুর অনুবাদ হয়েছে, প্রচুর বই ছাপা হয়েছে
সেদেশেই এবং সেসব বই অতি অল্প মূল্যে তারা সরবরাহ করেছেন আমাদের বাংলাদেশে এবং
পশ্চিমবঙ্গে। বিশ্বের অন্তত ৩৫টি ভাষাভাষী মানুষের কাছে সোভিয়েতরা তাদের
সাহিত্য অনুবাদ করে বই ছেপে পৌছে দিয়েছেন। ঢাকা ও কলকাতার ফুটপাতে সোভিয়েত
বইয়ের দখলেই বেশি জায়গা ছিল অল্প কিছুদিন আগ পর্যন্তও। কিন্তু সেদিন দ্রুতই
বিদায় নিচ্ছে। কারণ সকলের জানা। চিরায়ত রুশ সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলি এদেশে
অচিরেই দুর্লভ হয়ে উঠবে। সস্তা, চটুল উপন্যাসের রমরমা বাজারের এই যুগে
ম্যাক্সিম গোর্কির গল্প বিকোবে না জেনেও এ লেখকের শ্রেষ্ঠ গল্পগুলি থেকে
সাধ্যমতো বাছাই করে একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ সেই বিবেচনা থেকেই। কিন্তু কেন
গোর্কি? গোর্কি এই জন্যে যে—উনিশ শতকে পুশকিন আর গোগলের হাতে সূচিত, তুর্গেনেভ,
দস্তয়েভস্কি, তলস্তয়ের হাতে বিকশিত মহৎ রুশ কথাসাহিত্যের এক বিরাট উত্তরাধিকার
তিনি। অবশ্য ‘সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতার সংকীর্ণ একটি লেবেল নানাভাবে গোর্কির ওপরে
চাপানো হয়েছে, শুধুমাত্র মেহনতি শ্রেণীর লেখক বলে বিশ্বব্যাপী তাঁর পরিচয়
ব্যাপ্ত ও নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু আসলে কোনো নির্দিষ্ট একটা শ্রেণীর সাহিত্যিক
মুখপাত্র হিসেবে ম্যাক্সিম গোর্কিকে বিচার করা কোনো সুবিচার হয় না। উনিশ শতকের
শেষ পর্যায়ে এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে রাশিয়ার রাজনৈতিক জল হাওয়ায় ম্যাক্সিম
গোর্কির রচিত গল্প-উপন্যাস মুক্তিকামী শ্রমজীবী মানুষের কাছে অনুকূল ও
প্রেরণাদায়ক মনে হয়েছে। কিন্তু সেটাই গোর্কির ব্যাপারে শেষ কথা নয়; বিশ্বের
সকল দেশের সকল সমাজের সকল সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, ঘৃণাভালবাসা,
স্বপ্ন-বাস্তবতা, অসহায়ত্ব ও সগ্রামে গড়া জীবনের শাশ্বত কথা পাওয়া যায়
গোর্কির রচনায়। আজ সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা ভুলে গিয়ে ম্যাক্সিম
গোর্কির গল্পগুলো পাঠ করলে তার সর্বজনীন ও শাশ্বত আবেদন আবিষ্কার বা
পুনরাবিষ্কার করা যাবে। সোভিয়েত সাম্রাজ্য নেই, কিন্তু ম্যাক্সিম গোর্কি আছে।
ভুল করে ভাবা হত ম্যাক্সিম গোর্কি আরো কতিপয় ‘সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতার শিল্পীর
মতোই সোভিয়েত সরকার ও বিশ্বব্যাপী তাদের অনুচরদের হাতে তৈরি এক
বিগ্রহ—সমাজতন্ত্রের মতোই যা কৃত্রিম, ভঙ্গুর ও ক্ষীণায়ু।</td></tr></tbody></table>
রিভিউ (0)
এখনো কোনো রিভিউ নেই — প্রথম রিভিউ দিন।
রিভিউ দিতে লগইন করুন।








